পরিবহন ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের ওয়্যারলেস চার্জিং পরীক্ষামূলক প্রজেক্ট

টেকসই পরিবহন ব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক গাড়ির বেশ সম্ভাবনাপূর্ণ ভবিষ্যতের অঙ্গীকার লক্ষ করা যায়। কিন্তু এই পরিবহন ব্যবস্থায় মাথাব্যাথার কারণ হল ভারী ব্যাটারী, রিচার্জ করার সমস্যা। রিচার্জেবল ব্যাটারী খুবই ব্যয়বহুল আবার রিচার্জ করতেও যথেষ্ঠ সময় নিয়ে থাকে।
পরিবেশের সাথে একটু সখ্যতা করল বটে, কিন্তু সময় ও অর্থের সাথে বৈরীতা করে গতিশীল অর্থনৈতিক সাধনা করা মানবসমাজের জন্য একটা সমস্যা ঠিকই রেখে দিল।
ইসরায়েল একটি অভিনব প্রচেষ্টা করছে, রাস্তায় তারবিহীন চার্জ করার মাধ্যমে। অনেকটা বৈদ্যুতিক ট্রেনে যেমন সরাসরি লাইন থেকে শক্তি প্রদান করা হয়, তেমনি রাস্তা দিয়ে তারবিহীন চার্জারের মাধ্যমে গাড়ি শক্তি গ্রহণ করে চলবে। এতে করে আর আগের মত ভারী ব্যাটারী ব্যবহার করতে হচ্ছে না। এমনকি রিচার্জের উদ্দেশ্যে আলাদা করে থেমে সময় খরচ করতে হচ্ছে না। ঠিক যেমনটা গতিশীল পরিবহন ব্যবস্থা চেয়েছে প্রাযুক্তিক উৎকর্ষতায় উন্মীলিত মানুষেরা।

বর্তমানে ইসরায়েলের রাজধানী তেল-আবিবের রাস্তায় ৮০ ফুট (মাত্র ২৪ মিটারের কিছু বেশি) দৈর্ঘ্যে এর প্রোটোটাইপ প্রকল্প চলছে। পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে ২০১৮ সালের মধ্যে এটি আধাকিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ করা হবে এবং পরবর্তীতে ইসরায়েলের এইলাট শহর এবং রমন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যকার ১১ কিলোমিটার রাস্তায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। চলবে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ শাটল সার্ভিস।

ইসরায়েলিরাই যে প্রথম তা কিন্তু নয়, কোরিয়ানরা বরং এই পদ্ধতি আরো আগেই ধরে ফেলেছে। Korea Advanced Institute of Science and Technology ১৫ মাইল দীর্ঘ রাস্তায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তারবিহীন পদ্ধতিতে যেভাবে মোবাইল চার্জ দেয়া হয়, ঠিক একই নীতি ব্যবহার করা হয়েছে এখানে, কেবল একটু বৃহত্তর স্কেলে। বৈদ্যুতিক আবেশের নীতি ব্যবহৃত হয়েছে এখানে।

কোরিয়াতে রাস্তা থেকে বাসের রিচার্জিং মেকানিজম তল মাত্র ১৭ সেন্টিমিটার ব্যবধানে থাকে। দূরত্ব বাড়লে চার্জিং এফিসিয়েন্সি (দক্ষতা) কমে যায়। এ পরিস্থিতিতে ১০০কিলোওয়াটে চার্জিং কর্মদক্ষতা ৮৫%। চার্জিং প্লেটগুলো বিস্তারের হিসেব করলে তারা রাস্তার ৫-১৫% জায়গা খরচ করেছে। কোরিয়াতে এই পরীক্ষণটি চলছে দুটো ইনডাকশন বাস দিয়ে, সফল হলে অবশ্যই সেটা বেড়ে দাঁড়াবে।

Advertisements

হিলিয়াম মুখে নিলে কেন আপনার গলার স্বর অদ্ভূত হয়ে যায়?

প্রশ্নের বিশেষত্বটা পরিষ্কার করা যাক। আপনি যখন কথা বলছেন আর হিলিয়াম মুখে শ্বাস হিসেবে নিয়ে আপনি যখন কথা বলবেন আপনার স্বর বদলে যাবে গলার। দুটো সময়ে আলাদা রকমের শোনা যাবে উৎপন্ন আওয়াজ। নাইট্রোজেন, অক্সিজেন গ্যাসের স্বরের সাথে বড় পার্থক্য করে দেয় হিলিয়াম। হিলিয়ামের সাথে তাদের গ্যাসের ধর্মের পার্থক্য এই পরিবর্তনের জন্য দায়ী।

maxresdefault
হিলিয়াম মুখে নিলে আপনার গলার স্বর অদ্ভূত হয়ে যায়। কিন্তু কেন?

 

শব্দ তরঙ্গের গঠন আর গতি পদার্থের গুণের সাথে তফাৎ করে।
গলায় আওয়াজ তৈরী হয় ভোকাল কর্ডের মাধ্যমে আঘাতের ফলে। আঘাতে বায়ুতে শব্দ তরঙ্গ সঞ্চারিত হয়। একটা ড্রামের পর্দায় আঘাত করলে পর্দাটি কেঁপে উঠে। পর্দা বা চামড়াটি কম্পনের সময় যখন উপরে উঠে, সেটি বায়ুস্তরকে (গ্যাসের অণুগুলোকে) উপরের দিকে ঠেলে দেয়। যখন নিচের দিকে যায়, তখন একটি পিছটান তৈরী হয়, শূন্যতা থেকে। এভাবে ক্রমাগত সংকোচন প্রসারণ ঘটতে থাকে, আর এই সংকোচন প্রসারণের সিরিজটাই শব্দতরঙ্গ। ড্রাম বা ঢোলের ক্ষেত্রে এই যে আঘাত দেয়া লাগছে তেমনি গলার আওয়াজে ভোকাল কর্ড আঘাতের কাজটি করে। 


আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে হিলিয়াম হোক নাইট্রোজেন হোক সব গ্যাসের সমান আয়তনে সমান সংখ্যক অণু থাকে, কিন্তু ভর সমান থাকে না। নাইট্রোজেন বা স্বাভাবিক বায়ু মোটামুটিভাবে হিলিয়ামের চেয়ে সাতগুণ ভারী। অধিক ঘনত্বের নাট্রোজেনে শব্দতরঙ্গ হিলিয়ামের চেয়ে ধীরে ভ্রমণ করে। নাইট্রোজেন, অক্সিজেন এর অণুগুলো ভারী, তাই আঘাতে এরা নড়াচড়া করতে আলসেমি করে। সোজা কথায় বেশি ভরের সরণের জন্য যেমন বেশি বল প্রয়োগ করা লাগে তেমনি হিলিয়ামের সাপেক্ষে এরা তো ভারী গ্যাস। এদিকে একই আয়তনে আমরা সমান সংখ্যক হিলিয়াম অণু পাচ্ছি, তাই হিলিয়াম বেশি লাফালাফি করতে পারবে।
২০ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় যেখানে নাট্রোজেনে শব্দের বেগ সেকেন্ডে ৩৪৪ মিটার সেখানে হিলিয়ামে শব্দ ছোটে ৯২৭ মিটার প্রতি সেকেন্ডে।

ড্রাম বা ভায়োলিনের তারের মত আমাদের গলার ভোকাল কর্ডের কম্পাঙ্কও একই থাকে, বায়ুর উপাদান সাপেক্ষে স্বাধীন। কিন্তু কর্ডের চারপাশের বায়ুর উপাদান হিলিয়াম হয়ে গেলে বায়ুর বেগ পরিবর্তন হবে। অর্থাৎ আসলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হবে (যেহেতু কর্ডের কম্পাঙ্ক স্বাধীন)। ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য মানে ভিন্ন স্বরের আওয়াজ।

ভিন্ন কিছু দেখলে তো একটু আলাদা অনুভূতি লাগেই। তাই না? হিলিয়ামকে শ্বাস নিয়ে গলার স্বর পরিবর্তনের ব্যাপারটি ভৌত ঘটনা। যতক্ষণ হিলিয়াম কণ্ঠনালীতে থাকবে ততক্ষণ এই ইফেক্ট পাওয়া যাবে। এর কারণে আপনার কণ্ঠে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন হবে না।